ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

 

মার্কেটিং কি?

সাধারণত কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পন্য বা প্রোডাক্ট বিক্রি করার জন্য সেগুলোর বিজ্ঞাপন ও প্রচারের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌছে দেওয়াকে মার্কেটিং বলে। আধিকাল থেকে মানুষ তার ব্যবসার উন্নতির জন্য বিভিন্ন ধরনের মার্কেটিং করে আসছে। বর্তমানে মানুষ তার ব্যবসার প্রচার করার জন্য সময়ে সাথে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল টেকনিক অবলম্বন করছে।





ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

এক সময় ছিল যখন ব্যবসায়িরা তাদের পন্য বিক্রয়ের জন্য ফেরিওয়ালাদের দিয়ে বাড়ি বাড়ি পন্য পাঠাতো। তারপর ধীরে ধীরে রেডিও ও টেলিভিশন আবিষ্কার হওয়ার পর মানুষ তার ব্যবসার পণ্যের বিজ্ঞাপনের জন্য রেডিও এবং টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন দিতে থাকে। কালক্রমে ইন্টারনেট আবিষ্কার হওয়ার পর ব্যবসায়িরা তাদের পন্যের প্রচারের জন্য ইন্টারনেটকে বেছে নেয়। আর ইন্টারনেটের মাধ্যমে পন্যের প্রচার ঘটিয়ে সেই পন্য মানুষের কাছে বিক্রি করার কৌশলকে ডিজিটাল মার্কেটিং বলে।

ফেসবুক মার্কেটিং কাকে বলে?

আমার মনেহয় আপনি ফেসবুক মার্কেটিং সম্পর্কে ইতোপূর্বে বুঝে গেছেন। ফেসবুকের মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহারকারির কাছে কোন প্রতিষ্ঠানের পন্য বা সেবা প্রচার করাকে ফেসবুক মার্কেটিং বা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বলে। সাধারণত দুটি উপায়ে ফেসবুক মার্কেটিং করা যায়। একটি হচ্ছে ফ্রি ফেসবুক মার্কেটিং এবং অপরটি পেইড ফেসবুক মার্কেটিং।


ফ্রি ফেসবুক মার্কেটিং

আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে একটি https://www.facebook.com/Freelancer-Fahad-106147988471142সেই পেজের মাধ্যমে আপনার প্রতিষ্ঠানের পন্য প্রচার করাই হচ্ছে ফ্রি ফেসবুক মার্কেটিং। আপনার ফেসবুক পেজে প্রচুর পরিমানে ফ্যান ফলোয়ার থাকলে খুব সহজে আপনি ফ্রি ফেসবুক মার্কেটিং করতে পারবেন। সেই পেজের মাধ্যমে আপনার প্রতিষ্ঠানের পন্য প্রচার করাই হচ্ছে ফ্রি ফেসবুক মার্কেটিং। আপনার ফেসবুক পেজে প্রচুর পরিমানে ফ্যান ফলোয়ার থাকলে খুব সহজে আপনি ফ্রি ফেসবুক মার্কেটিং করতে পারবেন।

ফেসবুক পেইড মার্কেটিং এর সুবিধা কি?

বিভিন্ন উপায়ে আপনি ফেসবুক পেইড মার্কেটিং করতে পারেন। আপনি চাইলে এফিলেয়েট মার্কেটিং করে আপনার পন্যের প্রচার ঘটাতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আপনার পন্য প্রচার করার জন্য বিভিন্ন ফেসবুক মার্কেটারদের সাহায্য নিতে হবে। তখন তারা তাদের বিভিন্ন ফেসবুক পেজে আপনার পন্যটির প্রচার করবে এবং সেখান থেকে আপনার পন্যটি বিক্রি হবে। এ ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই ফেসবুক মার্কেটারদের সাথে কন্টাকের মাধ্যমে অথবা কমিশনের ভিত্তিতে টাকা পরিশোধ করতে হবে।

তাছাড়া আপনি চাইলে ফেসবুক এডম্যানেজার ব্যবহার করে কিছু টাকা খরছ করে সরাসরি আপনার পন্যের বিজ্ঞাপন ফেসবুকে দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রেও আপনি দুটি উপায় অবলম্বন করতে পারেন। প্রথমে আপনার ফেসবুক পেজের বিজ্ঞাপন দিয়ে পেজে লাইক ও ফ্যান ফলোয়ার বৃদ্ধি করে নিতে পারেন, অথবা সরাসরি পন্যের বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। সাধারণত ফেসবুকে পন্যের বিজ্ঞাপন দেওয়াটাই ভালো। কারণ আপনার প্রোডাক্টের কোয়ালিটি ভালো হলে, প্রোডাক্ট এর বিজ্ঞাপন ও বিক্রি হওয়ার পাশাপাশি ফেসবুক পেজের লাইক অটোমেটিক বাড়তে থাকে।

এছাড়াও ফেসবুক পেইড মার্কেটিং এর অনেক সুবিধা রয়েছে। যেমন ধরুন- আপনার একটি শাড়ীর দোকান আছে। এ ক্ষেত্রে মহিলারা হবে আপনার টার্গেট করা কাস্টোমার। কারণ খুব কম পুরুষ আছে যারা তাদের স্ত্রী ও মেয়ের জন্য শাড়ী ক্রয় করে। বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মহিলারা তাদের নিজের শাড়ী নিজেই ক্রয় করে থাকে।

এ ক্ষেত্রে আপনি ফেসবুক এড ক্যাম্পেইন ব্যবহার করে শুধুমাত্র মহিলাদের টার্গেট করে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। তখন ফেসবুক আপনার বিজ্ঞাপনটি শুধুমাত্র মহিলাদের ফেসবুক একাউন্টে শো করবে। যার ফলে সব জায়গাতে বিজ্ঞাপন শো না হওয়ার কারনে আপনার খরছ অনেকাংশে কমে যাবে।

এছাড়াও আপনি যদি মনেকরেন যে, আপনার শাড়ীগুলো শুধুমাত্র ৩০ বছরের অধিক মাহিলাদের ব্যবহারের উপযোগি। তাহলে আপনার টার্গেটেড কাস্টোমার হবে ৩০ বছরের অধিক বয়সের মহিলা। কারণ সাধারণ নিয়মে বয়স্ক মহিলাদের শাড়ী কম বয়স্ক মহিলার কিনতে চাইবে না। এ ক্ষেত্রে ফেসবুক শুধুমাত্র ৩০ বছরের অধিক বয়সের মাহিলাদের টার্গেট করে বিজ্ঞাপন শো করার সুযোগ আপনাকে দিচ্ছে। অর্থাৎ আপনার বিজ্ঞাপন ৩০ বছরের কম বয়স্ক মহিলার ফেসবুক প্রোফাইলে শো হবে না।

তাছাড়াও আপনার শপিং মলটি কোন স্থানীয় এলাকায় হয়ে থাকলে, আপনি শুধুমাত্র ঐ এলাকার কাস্টোমারদের টার্গেট করে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। কোন নির্দিষ্ট এলাকা টার্গেট করে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিলে সেই বিজ্ঞাপন ঐ এলাকার ফেসবুক ব্যবহারকারী ছাড়া অন্য কারো কাছে শো হবে না।

এভাবে আপনার পছন্দমত বিভিন্ন প্রোডাক্ট এর কাস্টোমারদের টার্গেড করে আপনি ফেসবুক পেইড মার্কেটিং করতে পারবেন। এতকরে আপনার খরছ কম হবে এবং অধিক পরিমানে প্রোডাক্ট সেল করতে সক্ষম হবেন।

ফেসবুক পেইড মার্কেটিং এর সুবিধা কি কি-
  • ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি হওয়া সহজে প্রচার ঘটানো যায়।
  • যেকোনো জায়গা, শহর, দেশ বা লোকাল এরিয়া টার্গেট করে পন্যের বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়।
  • নির্ধারিত পন্যের টার্গেট করা মানুষের কাছে প্রোডাক্ট পৌছানো সম্ভব হয়।
  • বিভিন্ন বয়সের মানুষকে টার্গেট করে প্রোডাক্ট মার্কেটিং করা যায়।
  • অন্যান্য মার্কেটিং এর তুলনায় অল্প খরছে ফেসবুক বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়।
  • অনলাইনে কোম্পানির ব্রান্ড তৈরি করার জন্য ফেসবুক সবচাইতে সহজ মাধ্যম।
  • ব্লগ/ওয়েবসাইট প্রচারের সহজ মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক।
এ ছাড়াও ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ফেসবুক মার্কেটিং এর অনেক সুবিধা রয়েছে। যত দিন যাবে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং ফেসবুক মার্কেটিং এর চাহিদা তত বাড়তে থাকবে। কাজেই ফেসবুকে আপনার কোম্পানির ব্রান্ড তৈরি করতে পারলে, ভবিষ্যতে ডিজিটাল মার্কেটিং করাটা আপনার জন্য বেশ সহজ হবে।

কিভাবে ফ্রি ফেসবুক মার্কেটিং করবেন?

প্রথমত আপনার কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান ও দোকানের নামে একটি ফেসবুক ব্রান্ড পেজ তৈরি করে নিতে হবে। ফেসবুকে পেজ তৈরি করে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের যত ইনফরমেশন আছে, সবগুলো ভালোভাবে সেট করে নিতে হবে।

কখন আপনার দোকান খোলা থাকে, কখন বন্ধ করা হয়, কি ধরনের প্রোডাক্ট আপনি সেল করেন ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ করে একটি ফেসবুক পেজ তৈরি করে নিতে হবে। তারপর ফেসবুক পেজে আপনার বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট নিয়মিত পোস্ট করতে হবে। পোস্ট করার সময় অবশ্যই প্রোডাক্ট এর বিভিন্ন ভালো দিকগুলো তুলে ধরতে হবে।

তাছাড়া বিভিন্ন সময় আপনার দোকানের প্রোডাক্ট এর যে সমস্ত অফার দেওয়া হয়, সেই অফার সম্পর্কে ফেসবুকে পেজে আপডেট দিতে থাকবেন। তাহলে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা সহজে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে জেনে নিয়ে ক্রয় করার জন্য আগ্রহ দেখাবে।

শেষ কথা

আশাকরি আমি আপনাদেরকে ফেসবুক মার্কেটিং বিষয়ে কিছু ধারনা দিতে পেরেছি। ফেসবুক এড ক্যাম্পেন তৈরি বা কিভাবে একটি ফেসবুক এড তৈরি করতে হয়, সে বিষয়ে জানার জন্য পাঠকের নিকট হতে সাড়া পেলে, আমরা খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করার চেষ্টা করব।

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শিখব? (কার্যকরী ১০টি উপায়)